| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকীতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 07-11-2026 ইং
  • 710 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকীতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ
ছবির ক্যাপশন: সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

মহান অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় লাল পতাকার মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কুষ্টিয়া জেলা কমিটি। সমাবেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী অন্যায়যুদ্ধ, আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী সংঘাত এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রমবর্ধমান বিপদের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে মহান অক্টোবর বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশে দেশে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার বাবর আলীগেটস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হন। পরে লাল পতাকা হাতে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা কমিটির আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মোকতারুল ইসলাম মুক্তি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মিষ্টি-বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সদর উপজেলা সভাপতি তোরাপ আলী ব্যাপারী। এ সময় সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পলান বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯১৭ সালের মহান অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি, নিপীড়িত জাতি ও শোষিত জনগণের মুক্তির সংগ্রামে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। এই বিপ্লবের অজেয় শিক্ষা আজও বিশ্বজুড়ে শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষের প্রেরণার উৎস। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা, বাজার ও প্রভাববলয় দখলের প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ-সংঘাত বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সংঘাত, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও গণহত্যা, লেবানন ও সিরিয়ায় যুদ্ধের বিস্তার এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তাঁদের মতে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বাজার, সম্পদ ও প্রভাববলয় পুনর্বণ্টনের প্রতিযোগিতা বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, আঞ্চলিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। এর ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিসহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাঁরা বলেন, বিশ্বব্যাপী শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, চিকিৎসা ও পেনশন সুবিধা সংকোচন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক-জনতার আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকশ্রেণির ঐক্য, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শ্রমিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং এসবের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের আয় সে তুলনায় বাড়েনি। ফলে সীমিত আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনধারণ করা শ্রমজীবী মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক শ্রম অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই হবে না।

সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশকে ঘিরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ ও প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। তাই জীবিকা ও শ্রমিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জীবন রক্ষায় সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশ থেকে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মজুরি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, মহান অক্টোবর বিপ্লবের শিক্ষা ধারণ করে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিপদ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে শ্রমিকশ্রেণির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই সময়ের দাবি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে তাঁরা ১০ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম