কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর দিন ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের ভিড় জমে। ভক্তরা দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি প্রদান ও প্রার্থনা শেষে সন্ধ্যা থেকে রাত গভীর পর্যন্ত শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করেন।
জেলার পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের সময় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ভক্তদের কারও চোখে অশ্রু, কারও ঠোঁটে দেবীর বন্দনা—এর মধ্য দিয়েই মা দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। অনেকে নদীর পানি শরীরে ছিটিয়ে প্রার্থনা করেন পরিবারের শান্তি ও মঙ্গল কামনায়।
সকাল থেকে মণ্ডপ ও মন্দিরে নারীরা সিঁদুর খেলার আচার সম্পন্ন করেন। দেবীর পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে তার শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।
জানা যায়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সব পূজামণ্ডপেই নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায় এবারের দুর্গোৎসব পরিণত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর উৎসবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মনের আসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তাই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানালেও অন্তরে রয়ে যায় আগামী বছরে তার পুনরাগমনের অপেক্ষা।
কুষ্টিয়ায় এ বছরও শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |