কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা, সার সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ—সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ চাষে এগিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা। জেলার সদর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ পেঁয়াজের সমারোহ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে নেমে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পেঁয়াজের আগাছা পরিষ্কার, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের তীব্রতা আর কনকনে বাতাস উপেক্ষা করে রাতদিন জমিতে কাজ করছেন তারা, যেন কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা যায়।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকটে ভোগাচ্ছে বাজার। সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তবুও পেঁয়াজ চাষ বন্ধ না করে ধার-দেনা কিংবা অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি নিয়েই তারা জমিতে সার প্রয়োগ করছেন। কারণ, পেঁয়াজই তাদের কাছে এবছরের বাঁচা-মরার ফসল।
কুমারখালীর কৃষক আলহাজ্ব বলেন, “খরচ অনেক বেড়েছে, সারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তারপরও পেঁয়াজ চাষ করছি, কারণ ভালো ফলন হলে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা আছে।”খোকসার আরেক চাষি জানান, “শীত আর কুয়াশা আমাদের থামাতে পারেনি। আমরা বিশ্বাস করি, পরিশ্রম করলে আল্লাহ ফল দেবেন।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো সার ও সেচ নিশ্চিত করা গেলে এবছর কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল থাকবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নানা সংকটের মাঝেও কুষ্টিয়ার কৃষকেরা প্রমাণ করছেন—পরিশ্রম আর সাহস থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম অযোগ্য নয়। তাদের এই অদম্য সংগ্রামই দেশের কৃষি উৎপাদনের মূল শক্তি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |