কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
পবিত্র কুরআনের আলো মানুষের হৃদয়ে ছড়িয়ে দিতে কুষ্টিয়ার লাহিনী দক্ষিণপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো ৬ষ্ঠ বার্ষিকী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল। বায়তুস্ সামাদ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা-ই দারুল আশফাক আল-ইসলামিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বাদ আছর মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত ধর্মীয় সমাবেশে রূপ নেয়।
মাহফিলে প্রধান তাফসিরকারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মোস্তফা আল মুজাহিদ। হৃদয়স্পর্শী বয়ানে তিনি পবিত্র কুরআনের গভীর তাৎপর্য ও মানবজীবনে এর বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরে বলেন, “কুরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং তা বুঝে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করাই একজন মুসলমানের প্রকৃত দায়িত্ব।”
বিশেষ তাফসিরকারক হিসেবে অংশ নেন কিশোর বক্তা মাওলানা জিসমুল হাসান কাসেমী। তাঁর সাবলীল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সহজ ভাষায় কুরআনের শিক্ষা ব্যাখ্যা করে তিনি যুবসমাজকে নৈতিকতা, আদর্শ ও সত্যের পথে চলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাইফুল ইসলাম সায়েম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আলিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুস সামাদ, মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই ব্যক্তিত্বসহ দিগন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মুনতাকিম ইসলাম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন অত্র মাদ্রাসার সভাপতি জনাব মো. আক্তার শেখ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের তাফসীর মাহফিল সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।
মাহফিলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কুরআনের তাফসীর ও ইসলামী আলোচনা গভীর মনোযোগে শ্রবণ করে উপস্থিত জনতা এক অনন্য আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করেন।
সুশৃঙ্খল ও প্রশংসনীয় আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত অতিথিরা। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এই তাফসীরুল কুরআন মাহফিল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল নৈতিকতা, ঐক্য এবং আলোর পথে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |