কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৪ নম্বর বটতৈল ইউনিয়নে সমাজের নীরব সেবক গোর খোদকদের সম্মান জানিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার ১২০ জন গোর খোদকের হাতে পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি তুলে দিয়ে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে খাজানগর এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন খাজানগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজনু রহমান এবং বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শেখ রুশিয়া খাতুন।
আয়োজকদের উদ্যোগে বটতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ১২০ জন গোর খোদক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার গ্রহণ করেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গোর খোদকরা সমাজের এমন কিছু মানুষ, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা ব্যস্ততা ভুলে যেকোনো মানুষের মৃত্যুসংবাদ পেলেই দ্রুত ছুটে যান কবরস্থানে। দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রচণ্ড রোদ—কোনো কিছুই তাঁদের দায়িত্ববোধকে থামাতে পারে না। সামাজিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও তাঁদের মানবিক দায়িত্ব পালনে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন গোর খোদক বলেন, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য কবর খুঁড়েছেন তারা, কিন্তু তার কোনো হিসাব নেই। সমাজের মানুষের কাছ থেকে এমন সম্মান ও উপহার পেয়ে তারা ভীষণ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
আয়োজক মজনু রহমান ও মহিলা সদস্য শেখ রুশিয়া খাতুন বলেন, “গোর খোদকরা আমাদের সমাজের নীরব সেবক এবং অতি আপনজন। তাঁদের সম্মান জানাতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মহান মানুষগুলোর মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও গোর খোদকদের পাশে থাকার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সমাজের নীরব ও অবহেলিত এই সেবকদের সম্মান জানাতে নেওয়া এমন মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এলাকাবাসীও আয়োজকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |