কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া শহরে র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর ও সংগ্রামী আবহে পালিত হয়েছে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস—মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে দিনটি উদযাপন করেন বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় শহরের মজমপুর মোড়ে জড়ো হন বাংলাদেশ হোটেল-রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-২১২৬), কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সদস্যরা। লাল পতাকা উড়িয়ে, কণ্ঠে স্লোগানের ঝংকার তুলে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতারা মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়—বরং শ্রমিক শ্রেণির দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ন্যায়ের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল প্রতীক। বক্তারা স্মরণ করেন Haymarket affair-এর রক্তঝরা অধ্যায়, যার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা বিনোদন’—এই মানবিক অধিকার।
তারা আরও উল্লেখ করেন, Second International Congress-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের নানা বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, হোটেল খাতে অনেক শ্রমিকই এখনও নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক থেকে বঞ্চিত। শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। মে দিবসে বেতনসহ ছুটি নিশ্চিত করার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।
এছাড়া জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা, সর্বস্তরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, মে দিবসের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তা বাস্তব জীবনের সংগ্রামে প্রতিফলিত হতে হবে। মজুরি বৃদ্ধির ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মজুরি দাসত্বের অবসান সম্ভব। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী অন্যায় আগ্রাসী যুদ্ধের বিরুদ্ধে শ্রমিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিকতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
লাল পতাকার উচ্ছ্বাস, কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে উচ্চারিত দাবি আর ঐক্যের দৃপ্ত প্রত্যয়ে এবারের মে দিবসে কুষ্টিয়া যেন আবারও উচ্চারণ করেছে—অধিকার আদায়ে সংগ্রামই একমাত্র পথ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |