| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার জুগিয়া বালিমহল নিয়ে অনিশ্চয়তায় বশির এন্টারপ্রাইজ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 18-06-2026 ইং
  • 4072 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার জুগিয়া বালিমহল নিয়ে অনিশ্চয়তায় বশির এন্টারপ্রাইজ
ছবির ক্যাপশন: বৈধ কাগজপত্র থাকার দাবি, দ্রুত বালুঘাট চালুর আহ্বান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদা ইউনিয়নের জুগিয়া বালিমহলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান বশির এন্টারপ্রাইজ। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ইজারা গ্রহণ এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের পরও বালুঘাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এর প্রোপ্রাইটর বশির আলম।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, জুগিয়া বালিমহলের ইজারা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় লাভ করে বশির এন্টারপ্রাইজ। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ কোটি ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বশির আলম জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম-এর মৌখিক নির্দেশে বালুঘাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পুনরায় কার্যক্রম চালুর অনুমতি মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বশির আলম বলেন,"সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা ইজারা গ্রহণ করেছি এবং সরকারের কোষাগারে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বালুঘাট বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। যদি কোনো আইনি জটিলতা না থাকে, তাহলে দ্রুত বালিমহল চালুর ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।"

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বালুঘাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অচলাবস্থার কারণে শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), কুষ্টিয়া-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, বশির এন্টারপ্রাইজের এখনও ২ কোটি ৭৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে বালি উত্তোলনে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,"সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বালি উত্তোলনে কোনো বাধা নেই। অহেতুক অপচেষ্টা না করে দরপত্র অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধ করলেই তারা আইনানুগভাবে বালি উত্তোলন করতে পারবেন। সরকারি রাজস্ব পরিশোধ না করা পর্যন্ত বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।"

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম-এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত আইন ও নীতিমালার আলোকে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈধ ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানও পুনরুদ্ধার হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে এবং সরকারি স্বার্থ, আইনের শাসন ও জনস্বার্থ—তিনটিই সমানভাবে সুরক্ষিত থাকে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম