কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া সরদার বালিঘাটে সরকারি অনুমোদন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে বৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী হিসেবে এই বালু সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধানে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ-০২-এর সিসি (কংক্রিট) ব্লক নির্মাণকাজে স্থানীয় মোটা বালি (এফএম-১.৩০) ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই বালু সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মাবালি ভান্ডার-এর স্বত্বাধিকারী মো. রেজন মন্ডল এবং থ্রি স্টার বালি ভান্ডার-এর স্বত্বাধিকারী শামীম সরদার বৈধ চুক্তির আওতায় প্রকল্পে স্থানীয় মোটা বালি সরবরাহ করছেন। এ লক্ষ্যে রানাখড়িয়া গ্রামের মো. শামীম উদ্দিন (পিতা: মো. হাবিল উদ্দীন সরদার)-এর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট (সিএফটি) বালুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মোট ১ লাখ সিএফটি বালু সরবরাহ করা হবে এবং গত ৩ জুন ২০২৬ থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মানসম্মত বালি ব্যবহারের ফলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহন খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নতুন গতি পাচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত "কুষ্টিয়ার তালবাড়িয়া ও রানাখড়িয়া পদ্মা থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, দৈনিক প্রায় অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব লুট" শিরোনামের সংবাদের বিষয়ে বালিঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রকাশিত সংবাদে প্রকৃত তথ্যের প্রতিফলন ঘটেনি; বরং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত বৈধ কার্যক্রমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক তদারকি মেনে পরিচালিত এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম একদিকে যেমন পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নদীসম্পদ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও নদীভাঙন প্রতিরোধ, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |