কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া শহরের তীব্র যানজট নিরসন এবং দক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক ইজিবাইক চালক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২৬–২০২৭ মেয়াদে চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে পরে লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র দেওয়ার যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল কুষ্টিয়া পৌরসভা, তার বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন ছাড়াই হঠাৎ করে লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পৌরসভা সূত্র ও স্থানীয় ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং দক্ষ চালক তৈরির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ শেষে নির্ধারিত চালকদের শহরের ভেতরে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিয়েই লাইসেন্স নবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয় চালকেরা উল্লেখ করেছেন, কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বাইরের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত ইজিবাইককেও অর্থের বিনিময়ে নবায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে শহরের অভ্যন্তরে ইজিবাইকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে যানজট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বৈধ ও স্থায়ী চালকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের একাধিক ইজিবাইক চালক অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল প্রশিক্ষণ দিয়ে শহরের জন্য কার্ড দেওয়া হবে। এখন দেখছি কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাইরের গাড়িগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। আর আমাদের কাছ থেকে জোর করে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই টাকার কোনো বৈধ রসিদ বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা পৌরসভা দিতে পারছে না।"
চালকদের দাবি, যদি প্রশিক্ষণই মূল শর্ত হয়ে থাকে, তবে তা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ এবং অর্থ আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদেরও মত, নগরীর যানজট নিরসনে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি বহিরাগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণভিত্তিক লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঘোষিত পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকেও দীর্ঘমেয়াদে আরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |