| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

দৌলতপুরে পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে পুকুর, সেখানেই পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকেরা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 28-07-2026 ইং
  • 583 বার পঠিত
দৌলতপুরে পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে পুকুর, সেখানেই পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকেরা
ছবির ক্যাপশন: দৌলতপুরে পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে পুকুর, সেখানেই পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকেরা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

বর্ষার ভরা মৌসুমেও পানির দেখা নেই। একসময় যে পুকুরে বর্ষার পানিতে টইটম্বুর থাকত, এখন সেখানে ধুলোমাখা শুকনো মাটি। অথচ সেই শুকনো পুকুরের বুকেই সারি সারি পাটের আঁটি। পানির অভাবে বাধ্য হয়ে শুকনো পুকুরে গর্ত করে সামান্য পানি জমিয়ে কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এমনই চিত্র দেখা গেছে।

পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত এই ফসল ঘরে তুলতে কৃষকের যেমন পরিশ্রম করতে হয়, তেমনি পাট জাগ দেওয়ার সময়ও প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত পানি। কিন্তু চলতি মৌসুমে পিয়ারপুর ইউনিয়নের অনেক এলাকায় খাল-বিল ও পুকুরে পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পাট কাটার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পানিতে জাগ দিতে না পারলে পাটের আঁশের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে শুকনো পুকুরের তলদেশে গর্ত করে সেখানে পানি জমিয়ে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। কেউ কেউ আবার দূরের জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে বাড়ছে শ্রম ও উৎপাদন খরচ, কমছে কৃষকের লাভ।

কৃষকদের ভাষ্য, পাট চাষে বীজ বপন থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও কাটাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাদের শ্রম দিতে হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পানির সংকট দেখা দিলে পুরো বছরের পরিশ্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে দেরি হলে আঁশের গুণগত মান কমে যেতে পারে। এতে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পিয়ারপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, ‘পাট চাষ করে ভালো ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার মতো পানি পাচ্ছি না। পুকুর-ডোবা শুকিয়ে গেছে। তাই শুকনো পুকুরে গর্ত করে কোনোভাবে পানি জমিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বেশি লাগছে।’

আরেক কৃষক বলেন, ‘পাট আমাদের কাছে শুধু একটি ফসল নয়, সংসারের আয়ের অন্যতম ভরসা। পানির অভাবে যদি পাটের আঁশের মান নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কৃষকের লোকসান হবে। এ অবস্থায় স্থানীয় জলাশয়গুলোতে পানি সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

কৃষকদের দাবি, ইউনিয়নের খাল, বিল ও জলাশয়গুলো পুনঃখনন করে পানি ধারণের ব্যবস্থা করা হলে শুধু পাট জাগ দেওয়ার সমস্যাই নয়, কৃষিকাজের নানা সংকটও অনেকটা কমে আসবে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বিকল্প জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা বা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট এবং পানি সংরক্ষণের অভাবের কারণে গ্রামীণ জনপদে এমন সংকট বাড়ছে। কৃষকের উৎপাদিত সোনালি আঁশের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে হলে পাট জাগ দেওয়ার মৌসুমে পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পিয়ারপুর ইউনিয়নের শুকনো পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার এই দৃশ্য যেন একদিকে কৃষকের কঠোর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে গ্রামীণ জলাশয় ও পানি ব্যবস্থাপনার সংকটের নীরব দলিল। সোনালি আঁশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে কৃষকেরা আজও লড়ছেন—শুধু একটু পানির আশায়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম