| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ভেড়ামারায় আনারকলি ফল চাষে নতুন স্বপ্ন, সফলতার পথে কৃষি উদ্যোক্তা মিলন

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 02-09-2026 ইং
  • 481 বার পঠিত
ভেড়ামারায় আনারকলি ফল চাষে নতুন স্বপ্ন, সফলতার পথে কৃষি উদ্যোক্তা মিলন
ছবির ক্যাপশন: ভেড়ামারায় আনারকলি ফল চাষে নতুন স্বপ্ন, সফলতার পথে কৃষি উদ্যোক্তা মিলন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রচলিত কৃষির গণ্ডি পেরিয়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছেন কৃষি উদ্যোক্তা মশিউর রহমান মিলন। টক-মিষ্টি স্বাদের পুষ্টিগুণে ভরপুর অপ্রচলিত ফল আনারকলি বা প্যাশন ফ্রুট চাষ করে তিনি এখন সফলতার স্বপ্ন বুনছেন। নতুন এই ফলের চাষে ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলার ধর্মদহ ইউনিয়নের নবগঙ্গা গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান মিলন নিজ উদ্যোগে আনারকলি ফলের চাষ শুরু করেন। লতানো এই ফলগাছ মাচায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বাগান যেন পেয়েছে নতুন এক সম্ভাবনার রূপ। পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও আধুনিক কৃষিচিন্তার সমন্বয়ে তিনি এখন নতুন ধরনের ফলচাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় এই ফলটির প্রকৃত নাম প্যাশন ফ্রুট। বাংলাদেশে অনেকের কাছে এটি ট্যাং ফল নামেও পরিচিত। সুঘ্রাণ ও টক-মিষ্টি স্বাদের কারণে ফলটি ইতোমধ্যে ভোক্তাদের কাছে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ বাড়লেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এ ফলের চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

গোলাকার আকৃতির এ ফলের বাইরের খোলস বেশ শক্ত। জাতভেদে পাকলে এর রং হলুদ কিংবা বেগুনি হয়ে থাকে। ফলের ভেতরে থাকে রসালো সজ্জা ও ছোট ছোট ভোজ্য বীজ। মৃদু টক-মিষ্টি স্বাদ এবং মনোমুগ্ধকর সুবাসের কারণে এটি সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস, শরবত, স্মুদি ও বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়।

পর্যটননগরী কক্সবাজারে এই ফলের রয়েছে ভিন্ন রকম জনপ্রিয়তা। সেখানে ফলটি কেটে লবণ, মরিচ ও চিনি মিশিয়ে টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদে পরিবেশন করা হয়। আবার ফলের রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ও সতেজ পানীয়।

কৃষি উদ্যোক্তা মশিউর রহমান মিলন বলেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক কিছু করার চিন্তা থেকেই তিনি আনারকলি ফল চাষ শুরু করেন। শুরুতে বিষয়টি অনেকের কাছে নতুন মনে হলেও ফলন দেখে এখন আশপাশের মানুষও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত বাজারজাত করা গেলে এই ফল চাষ স্থানীয় কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

আনারকলি ফল একটি লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় মাচা, রেলিং বা উপযুক্ত কাঠামোর ওপর সহজেই এর গাছ বেড়ে ওঠে। তুলনামূলক কম জায়গায় এবং পরিকল্পিত পরিচর্যায় এর বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, নতুন ফলের বাজার সম্প্রসারণ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে ভেড়ামারাসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ও উচ্চমূল্যের ফল চাষে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি। জলবায়ু ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ফসলের সম্প্রসারণ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে।

ভেড়ামারার নবগঙ্গা গ্রামের মশিউর রহমান মিলনের আনারকলি ফলের বাগান তাই শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়—এটি প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনা খোঁজার এক অনুপ্রেরণার নাম। সঠিক দিকনির্দেশনা, উন্নত চারা, প্রশিক্ষণ ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভেড়ামারার মাটিতে একদিন এই অপ্রচলিত ফলই হয়ে উঠতে পারে লাভজনক কৃষির নতুন অধ্যায়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম