কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
মোবাইল ফোন এখন আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। শিক্ষা, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আবার এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, সময় ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক জীবনে তৈরি করছে নানা ঝুঁকি। প্রযুক্তির এই দ্বিমুখী বাস্তবতাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি ও বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর মূল বিষয় ছিল—‘মোবাইল ফোন—আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?’
প্রতিযোগিতায় একটি পক্ষ মোবাইল ফোনের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এর প্রয়োজনীয়তা ও বহুমুখী উপকারিতা ব্যাখ্যা করে। অন্য পক্ষ তুলে ধরে মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের ভয়াবহতা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব, সময়ের অপচয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার চিত্র।
যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা যুক্তির ধারাবাহিকতায় দুই দলের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে জমে ওঠে বিতর্কের আসর। কখনো প্রযুক্তিকে শিক্ষার সহায়ক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, আবার কখনো নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতিকর পরিণতি নিয়ে সতর্ক করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে শুধু প্রতিযোগিতার উত্তাপ নয়, উঠে আসে প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক মোঃ শফিকুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মফিজুর রহমান, মোঃ শফিউল আজম ও মোঃ আব্বাস আলী।
বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা মোঃ শাহাব উদ্দীন, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং মোছাঃ জুলেখা খাতুন। বিতর্কের মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক মোঃ মাসুম রানা। প্রতিযোগিতার ফলাফল সংকলনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজনটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
শিক্ষকরা মনে করেন, বিতর্ক শুধু কথা বলার প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তি দিয়ে ভাবতে, তথ্য যাচাই করতে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখায়। আর মোবাইল ফোনের মতো সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিতর্ক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সুফল ও কুফল সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে। তাদের প্রত্যাশা, বিতর্কের মঞ্চে গড়ে ওঠা যুক্তিনির্ভর চিন্তার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |