কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলার সেক্রেটারি এনামুল হক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব কুমার।
সভায় জানানো হয়, এবার জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ২৫৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে সাতটি। বাড়তি মণ্ডপগুলোতেও নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের আয়োজকদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপ কমিটিগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধনেরও এক উজ্জ্বল প্রকাশ। কুষ্টিয়ার প্রতিটি পূজামণ্ডপে যাতে উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন থাকে, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রস্তুতিমূলক এ সভার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতার আনুষ্ঠানিক রূপরেখা আরও স্পষ্ট হলো। উৎসবের দিনগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |