| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন, কাটামাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 08-12-2025 ইং
  • 57533 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন, কাটামাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন, কাটামাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

অগ্রহায়ণের সোনালি ঋতু এসে যেন নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে কুষ্টিয়ার কৃষিজীবনে। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন পাকা ধানের সোনালী শীষে দুলছে। বাম্পার ফলনের এ সুখবরকে ঘিরে কৃষক সমাজের মুখে লেগেছে হাসি, গ্রামীণ জীবন পেয়েছে এক অনন্য সজীবতা।

ধান কাটা, মাড়াই আর পরিবহনে এখন দম ফেলার সময় নেই কৃষক-কৃষাণীদের। কেউ হাতুড়ি দিয়ে খড় ছড়াচ্ছেন, কেউ ধান গোলায় তুলছেন—সারাদিন পরিশ্রমে ভরা। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত যেন এক উৎসবমুখর ব্যস্ততা। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে চলছে ধান কাটা, আবার কোনো কোনো বাড়ির উঠানে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ—সবমিলিয়ে গ্রামজুড়ে আনন্দঘন কর্মযজ্ঞ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কৃষিবিদ রুপালী খাতুন জানান, “এবার আবহাওয়া ছিল সম্পূর্ণ অনুকূলে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানের ফলে উৎপাদনে এসেছে সাফল্য। বিগত বছরের তুলনায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

কৃষিশ্রমিকদের কর্মহীন দিন এখন অতীত। আগাম জাতের ধান এবং পাশাপাশি শীতকালীন সবজি আবাদের কারণে মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মসংস্থান বেড়েছে বহুগুণ।

মিরপুর উপজেলার নিমতলা এলাকার কৃষক জামিরুল ইসলাম বলেন, “এক বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষে এবার ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।” চিথলিয়ার কৃষক মমিন বলেন, “এইবার ধান ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে কিছু সঞ্চয় করা যাবে।”

তবে কৃষকের কিছু দুঃশ্চিন্তাও রয়েছে। বাজারে সার-বালাইনাশকের অতিরিক্ত দাম, পোকা-মাকড় ও রোগবালাই প্রতিরোধে বাড়তি খরচ—সব মিলিয়ে লাভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে বাম্পার ফলনও লাভের মুখ দেখাতে পারবে না।

এদিকে গ্রামের আনাচে কানাচে শুরু হয়ে গেছে নবান্নের উৎসবাটুকু। নতুন চালের পিঠা, আপ্যায়ন, খাওয়া-দাওয়া—সবই চলছে, যদিও শীতের আমেজ পুরোপুরি না জমায় উৎসব কিছুটা নরম স্বরে। শহরের মোড়ে মোড়ে ইতোমধ্যে পিঠার দোকানে ভিড় জমেছে তরুণ-তরুণী ও শ্রমজীবী মানুষের।

ফলনের সাফল্যে সন্তুষ্ট কৃষি বিভাগও। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ থাকবে নিরাপদ। পাশাপাশি কৃষক যেন সহজেই কৃষিবিদের কাছে পৌঁছাতে পারে সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকেরা লোকসান কাটিয়ে উঠবেন—এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

গ্রামবাংলার বাতাসে এখন সোনালী ফসল আর কৃষকের হাসির রং। মাঠভরা ধান, ঘরে নবান্নের উৎসব—সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন আনন্দের মৌসুম। এই বাম্পার ফলনের সুখ যেন টেকসই হয়—তাই সময়ের দাবি, কৃষকবান্ধব নীতি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম