কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিটি শহরের বাতাসে ভেসে ওঠা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে— “দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই কর—শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ।” মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার আর শ্রমিক ঐক্যের বার্তা জানানোর দৃঢ় প্রত্যয়ে হাজারো মানুষ এতে অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহাম্মদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ মোখলেছ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সদর থানা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম মাজমাদার এবং অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী মোহাম্মদ মোবারক হোসেনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।
কুতুব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা কোনো নির্দিষ্ট দিবসের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং শ্রম আদালতের সংস্কার আজ সময়ের দাবি। শ্রমিকদের উপর নির্যাতন, বঞ্চনা ও হয়রানির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। শ্রমিকদের ঘামেই দেশের উন্নয়ন; তাই তাদের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা সব ক্ষেত্রেই নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের যেকোনো বৈধ দাবি, অধিকার ও সমস্যার সমাধানে তিনি সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হলো শ্রমবাজার। শ্রমিকদের প্রতি হয়রানি, পাওনা বকেয়া, নিরাপত্তাহীন পরিবেশ ও শোষণ বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
র্যালিতে শ্রমিক অধিকার আদায়ে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়—১. ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা। ২. নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা। ৩. নারী শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা। ৪. শ্রম আদালতের সংস্কার। ৫. নির্যাতন বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ।
আয়োজকরা জানান, নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর–১০ ডিসেম্বর) জুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
র্যালি শেষে মানবাধিকার ও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মানবাধিকার দিবসে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার এ বার্তা কুষ্টিয়ার জনপদে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |