| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 18-12-2025 ইং
  • 95022 বার পঠিত
কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে পেঁয়াজের চারা রোপণের ব্যস্ত মৌসুম। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত জমি প্রস্তুতি ও বাজারে পেঁয়াজের ভালো দামের প্রত্যাশায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠঘাটে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কাকডাকা ভোরে মাঠে নেমে দলবদ্ধভাবে চারা রোপণে মেতে উঠেছেন তারা, যেন পুরো গ্রামজুড়ে কর্মচাঞ্চল্যের উৎসব।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ আবাদ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে পেঁয়াজের দাম সন্তোষজনক থাকায় অনেক কৃষক এবার এ ফসলে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, মিরপুর, খোকসা ও দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ইতোমধ্যে পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজের খেত প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত। জমি চাষের পর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে উপযুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে চারা রোপণের জন্য। একেকটি জমিতে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জন কৃষক সারিবদ্ধভাবে বসে চারা রোপণ করছেন। মাঠজুড়ে শুধু মানুষের আনাগোনা, আর পরিশ্রমের মধ্যেও মুখে মুখে আনন্দের হাসি।

এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ‘কিং পেঁয়াজ’ চাষে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কৃষকেরা জানান, অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় এই জাতের পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকছেন তারা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, “গত বছর ১৫ কাঠা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এবার চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। শ্রমিক সংকট থাকায় নারী শ্রমিকদের দিয়েও চারা রোপণ করাতে হচ্ছে।”

তবে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম এলাকার কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, “গত বছর এক কেজি পেঁয়াজ বীজ কিনেছিলাম সাড়ে তিন হাজার টাকায়, এবার সেই বীজ কিনতে হয়েছে সাড়ে দশ হাজার টাকায়। ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা আছে।

অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে শ্রমমূল্যও বেড়েছে। কুমারখালীর বাধবাজার এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন তিনি। জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যেই জেলার অধিকাংশ এলাকায় পেঁয়াজ রোপণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া জানান, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা রোগবালাই দমন ও পরিচর্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, দেশের যে পাঁচটি জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হয়, কুষ্টিয়া তার অন্যতম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ দিয়ে দেশের বড় একটি অংশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের আশা, সঠিক সময়ে সেচ, সার ও কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে এবার পেঁয়াজের মাঠে পরিশ্রমের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম