| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় পরিবর্তনের আন্দোলনে আশাভঙ্গ মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ না হলে বদলে যেতে পারে হিসাবনিকাশ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 29-12-2025 ইং
  • 35653 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পরিবর্তনের আন্দোলনে আশাভঙ্গ মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ না হলে বদলে যেতে পারে হিসাবনিকাশ
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় পরিবর্তনের আন্দোলনে আশাভঙ্গ মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ না হলে বদলে যেতে পারে হিসাবনিকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুষ্টিয়ায় ‘পরিবর্তনের’ দাবিতে আন্দোলনে নামা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর আশায় কার্যত গুড়ে বালি পড়েছে। টানা আন্দোলন, মিছিল-মিটিং ও নানা কর্মসূচির পরও শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনেই পূর্বঘোষিত প্রার্থীদের হাতেই দলীয় মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছে বিএনপি। এতে করে দলটির ভেতরে থাকা অসন্তোষ আপাতত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে—যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে হিসাবনিকাশ পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ার চারটি আসনের প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে যায়—কুষ্টিয়ার কোনো আসনেই প্রার্থী পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি দলটি। চারটি আসনই ধরে রাখার কৌশলেই এগোচ্ছে বিএনপি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— যাদের হাতে চূড়ান্ত টিকিট

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা): ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর): প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা): সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী।

প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর চারটি আসনেই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ এমনকি মশাল মিছিল পর্যন্ত করেন। অনেকেই শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিবর্তনের আশায় ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণার মাধ্যমে সেই আশার অবসান ঘটেছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা, নীরব ভোটারের হিসাব:

মনোনয়ন না পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কি না—সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে—যদি কোনো আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকেন, তবে সেখানে নির্বাচনের হিসাব পুরোপুরি পাল্টে যেতে পারে। এমনকি বিদ্রোহী না থাকলেও ‘নীরব ভোটারদের’ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যা জামায়াতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রার্থীদের উচ্ছ্বাস, কেন্দ্রের কড়া বার্তা

চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। দলীয় মনোনয়নপত্র হাতে নিয়ে ছবি পোস্ট করে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন,

“মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমার ওপর আস্থা রেখেছেন—এ জন্য কৃতজ্ঞ। আমার এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খুশি। ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে জয়ী হব।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন,

“প্রাথমিক ঘোষণার পর আজ চূড়ান্ত মনোনয়ন হাতে পেলাম। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ। এলাকায় ফিরে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে নামব।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্র থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে—কেউ স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

তিন আসনে এখনো অসন্তোষ

দলীয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার অন্তত তিনটি আসনে এখনো ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাবেক এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের অনুসারীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে— কুষ্টিয়া-২ আসনে সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম। কুষ্টিয়া-৩ আসনে সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।কুষ্টিয়া-৪ আসনে সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক।

এই নেতাদের অনুসারীরা পুরোপুরি মাঠে না নামলে তা প্রার্থীদের জন্য ‘বুমেরাং’ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন “চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান দেশে ফিরে এসেছেন—এখন দলে কোনো গ্রুপিং থাকবে না। সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে। আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মাঠ এখনো পুরোপুরি শান্ত নয়। প্রশ্ন একটাই—

শেষ পর্যন্ত কি সব মান-অভিমান ভুলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়াবেন, নাকি সেই ভাঙনের ফায়দা নেবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করে দেবে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের ভাগ্য।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম