কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
:সবুজ মাঠের বুকে রক্তিম আভা ছড়িয়ে কুষ্টিয়ার গ্রামগুলোতে এখন নতুন স্বপ্নের গল্প। শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে মাঠজুড়ে লালশাকের সতেজ পাতায় ঝিলমিল করে শিশির। একসময় অবহেলিত এই শাকই আজ অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর আশার নাম।
জেলার কুমারখালী, মিরপুর, দৌলতপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছোট-বড় খণ্ড জমিতে লালশাকের চাষ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অল্প সময়ে ফলন, কম খরচ আর দ্রুত বাজারজাত করার সুবিধায় এই শাক কৃষকদের কাছে হয়ে উঠেছে লাভজনক ফসল। মাত্র ২০–২৫ দিনের মধ্যেই কাটার উপযোগী হওয়ায় এক মৌসুমে একাধিকবার চাষ সম্ভব—যা কৃষকের হাতে দ্রুত নগদ অর্থ এনে দিচ্ছে।
কুমারখালীর এক কৃষক বলেন, “ধান বা সবজির বড় চাষে ঝুঁকি বেশি। লালশাকে খরচ কম, পরিচর্যাও সহজ। বাজারে চাহিদা থাকায় বিক্রি নিয়ে চিন্তা নেই।” তাঁর মতো অনেকেই জানান, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ চালাতে লালশাক বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
কুষ্টিয়ার হাট-বাজারগুলোতেও লালশাকের চাহিদা চোখে পড়ার মতো। ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষকেরা ক্ষেত থেকে শাক তুলে ঝুড়ি ভরে বাজারে নিয়ে আসেন। তাজা লালশাকের উজ্জ্বল রঙ আর পুষ্টিগুণে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে প্রতিদিন। বিক্রেতারা বলছেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ায় শাকের কদর বেড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, লালশাকে ভিটামিন ও আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। পাশাপাশি কম সময়ে ফলন পাওয়ায় কৃষকদের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। তাঁরা উন্নত বীজ ব্যবহার, সঠিক সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন।
তবে চ্যালেঞ্জও আছে। কখনো বাজারদর কমে গেলে লাভে টান পড়ে, আবার অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবুও আশা ছাড়ছেন না কৃষকেরা। তাঁদের বিশ্বাস, পরিকল্পিত চাষ আর ন্যায্য বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত হলে লালশাকই হতে পারে ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।
সবুজের মাঝে লালের এই সম্ভাবনার গল্পে কুষ্টিয়ার মাঠ এখন শুধু ফসল ফলাচ্ছে না—ফলাচ্ছে স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আগামীর আশ্বাস।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |