কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কৃষিভিত্তিক জনপদ কুষ্টিয়াজুড়ে এখন ব্যস্ততার এক অন্যরকম দৃশ্য চোখে পড়ে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহে কৃষকেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে বরো ধান গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের বিদায় লগ্ন ও বসন্তের মৃদু আবহাওয়ায় ধানের শীষ গঠনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় কৃষকদের মনে জেগেছে নতুন আশার আলো।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ছুটছেন কৃষকেরা। কেউ সেচ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ রোগ-বালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। মাঠজুড়ে কৃষকদের এই নিরলস শ্রম যেন গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা ছন্দকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া বরো ধান চাষের জন্য বেশ অনুকূল রয়েছে। পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে তারা এবার ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। অনেক কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের গাছের যত্ন নিচ্ছেন, যাতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বরো মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো সেচ প্রদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং সুষম সার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বরো ধানে বাম্পার ফলন অর্জিত হতে পারে।
এদিকে মাঠজুড়ে দুলছে ধানের সবুজ তরঙ্গ, যা শুধু কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই নয়, গ্রামীণ জীবনের নান্দনিক সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষকের ঘামে ভেজা শ্রম আর প্রত্যাশার গল্পই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে। সফল বরো উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন জেলার কৃষক সমাজ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |