কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের রায়টা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে, বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল সালাম দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকেন না। অথচ হাজিরা খাতায় তার উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই তাকে চিনতে পারে না, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাগজে-কলমে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র দু’জন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। অভিভাবকদের ভাষায়, “যেখানে শিক্ষকই অনুপস্থিত, সেখানে শিক্ষার মান কীভাবে বজায় থাকবে?”—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
গত শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেলে রায়টা এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। এসব কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অভিভাবকদের মতে, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় বিদ্যালয়ে পাঠালেও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা পাচ্ছে না। অনেক সময় শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা অবহেলিত অবস্থায় সময় কাটাচ্ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম নবী শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল সালামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি জাতির মজবুত ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর। সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে এর প্রভাব পড়ে গোটা সমাজব্যবস্থায়। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যালয়ে সুশাসন ফিরিয়ে আনবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |