কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার শান্ত-নিরিবিলি গ্রাম গোলাপনগর—প্রথম দেখায় সাধারণ এক জনপদ। কিন্তু এই নিভৃত গ্রামটিই বহু বছর ধরে হয়ে উঠেছে আধ্যাত্মিক সাধনা, বিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনন্য কেন্দ্র। এখানেই অবস্থিত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত সোলেমান শাহ (রহ.)-এর পবিত্র মাজার, যা পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ৯ একর জমির উপর বিস্তৃত।
ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মানুষের আগমন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত, অনুসন্ধিৎসু মানুষ আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে মাজার প্রাঙ্গণ। কেউ আসেন মানত নিয়ে, কেউ খোঁজেন একটু নির্জনতা—আত্মিক প্রশান্তির আশায়। অনেকেই জানান, এখানে এসে তারা এক ধরনের অদৃশ্য শান্তির স্পর্শ অনুভব করেন, যা তাদের জীবনের ক্লান্তি ও দুঃখ-কষ্টকে মুহূর্তেই দূর করে দেয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, হযরত সোলেমান শাহ (রহ.) ছিলেন একজন মহান অলী-আউলিয়া। তাঁর জীবন ছিল সরলতা, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রচার ও মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পরও সেই আদর্শ যেন জীবন্ত হয়ে আছে তাঁর মাজারকে ঘিরে।
প্রতি বছর ওরস শরীফ উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে বসে এক বিশাল মিলনমেলা। আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আযকার এবং গণভোজের মতো নানা কর্মসূচি। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এই আয়োজন হয়ে ওঠে এক অসাধারণ সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব।
সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে মাজারটি দর্শনার্থীদের জন্য এক প্রশান্ত আশ্রয়স্থল। স্থানীয় কমিটি ও ভক্তদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে বজায় রাখা হয়েছে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের চমৎকার সমন্বয়।
গোলাপনগরের এই পবিত্র স্থানটি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানে এসে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ একে অপরের সঙ্গে মেলবন্ধনে আবদ্ধ হন—যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সব মিলিয়ে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার গোলাপনগরে অবস্থিত হযরত সোলেমান শাহ (রহ.)-এর মাজার আজ আর শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি হয়ে উঠেছে আধ্যাত্মিক জাগরণ, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতীক। দেশের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে—যা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গর্বিত অংশ হয়ে থাকবে চিরকাল।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |