কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা-র ওসমানপুর ইউনিয়ন যেন আজ এক নীরব কান্নার নাম। খরস্রোতা গড়াই নদী-র ভয়াল ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ইউনিয়নের গনেশপুর, রোমানাথপুর ও কোমরভোগ গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রতিদিন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা আর মানুষের বহু বছরের সঞ্চিত স্বপ্ন। আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘশ্বাসে দিন কাটছে নদীপাড়ের শত শত পরিবারের।
নদীভাঙনের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পায়নি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। হুমকির মুখে রয়েছে গনেশপুর কাছেমুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, গণেশপুর জামে মসজিদ, গনেশপুর বর্ণালী যুব সংঘ পাঠাগার ও ক্লাব, ঐতিহাসিক খেলার মাঠ, গনেশপুর কাছেমুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, ঐতিহাসিক গনেশপুর বাজার, আপিল জুট মিলের একটি গদিঘর ও গোডাউন, আজইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রোমানাথপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অসংখ্য বসতবাড়ি। এসব প্রতিষ্ঠান ও জনপদ রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি বারবার প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া কার্যালয়কে অবহিত করলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা জিও ব্যাগ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে স্রোত আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে এবং দ্রুত বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। নদীতীর দুর্বল হয়ে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে প্রতিনিয়ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, গনেশপুর ও কোমরভোগ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার শেষ সম্বল ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। কোথাও কোথাও নদী এসে পৌঁছেছে মানুষের বাড়ির আঙিনায়। শিশুদের খেলাধুলা, কৃষকদের কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পুরো জনপদই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চোখে এখন শুধু আতঙ্ক আর অসহায়ত্বের ছাপ। একদিকে প্রকৃতির নির্মম থাবা, অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের দৌরাত্ম্য—সব মিলিয়ে ওসমানপুর ইউনিয়ন-এর নদীপাড়ের জনপদ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপে আবারও নিরাপদ হয়ে উঠুক তাদের প্রিয় জন্মভূমি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |