| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত দুই লাখেরও বেশি গবাদিপশু

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 10-05-2026 ইং
  • 17383 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় কোরবানির চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত দুই লাখেরও বেশি গবাদিপশু
ছবির ক্যাপশন: ত্যাগের উৎসব ঘিরে খামারিদের ব্যস্ততা, স্বস্তিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়াজুড়ে এখন উৎসবমুখর ব্যস্ততা। জেলার গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই চলছে কোরবানির পশু প্রস্তুতের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। খামারিদের নিরলস শ্রম, প্রান্তিক কৃষকদের স্বপ্ন আর প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবার কুষ্টিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দুই লাখেরও বেশি গবাদিপশু। সংশ্লিষ্টদের আশা, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পশুর বাজারেও কুষ্টিয়ার পশু ব্যাপক সাড়া ফেলবে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলায় ছোট, মাঝারি ও বড় পরিসরে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৯ হাজার গরুর খামার। এছাড়াও গ্রামের অসংখ্য সাধারণ কৃষক পরিবার নিজ বাড়িতে গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করছেন। কোরবানির বাজারে দেশীয় জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের আস্থা ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবার বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে প্রায় দুই লাখ পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব বলছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় এক লাখ। এছাড়া ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যাও প্রায় এক লাখের কাছাকাছি। জেলার খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা এসব পশুর স্বাস্থ্য, শারীরিক গঠন এবং মাংসের গুণগত মান নিয়ে আশাবাদী খামারিরা।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার পশু শুধু স্থানীয় হাটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরের পশুর হাটে সরবরাহের জন্য শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতি বছরই কুষ্টিয়ার গরু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। সুস্থ, সবল ও প্রাকৃতিক খাদ্যে লালিত পশুর কারণে জেলার খামারিরা এবারও ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

খামারিরা জানান, পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তারা নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে কুষ্টিয়ার পশু নিয়ে ক্রেতাদের আস্থাও দিন দিন বাড়ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। পশুর রোগ প্রতিরোধ, টিকা কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার মহান শিক্ষায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহাকে ঘিরে কুষ্টিয়ার খামারিদের এই প্রাণচাঞ্চল্য এখন জেলার অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির পশু উৎপাদনে কুষ্টিয়ার এই সাফল্য শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম