কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার গ্রামাঞ্চলের পশুর খামারগুলোতে এখন উৎসবমুখর ব্যস্ততা বিরাজ করছে। খামারিদের দিন-রাতের পরিশ্রমে প্রস্তুত হচ্ছে কোরবানির পশু। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর বালিয়াপাড়া পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় তরুণ খামারি শরিফুল ইসলাম মালিথার গাড়ল ও ভেড়ার খামার এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অদম্য পরিশ্রম, ধৈর্য আর পরিকল্পিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই খামারে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি হৃষ্টপুষ্ট গাড়ল ও ভেড়া। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও আকৃতির পশুতে ভরপুর খামারটি ঈদ বাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে প্রতিনিয়ত। দেশীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের ভেড়াও রয়েছে তার সংগ্রহে, যা খামারটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
খামার ঘুরে দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে আলাদা আলাদা শেডে রাখা হয়েছে পশুগুলোকে। প্রতিটি গাড়ল ও ভেড়ার জন্য নিশ্চিত করা হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ পরিচর্যা। ফলে পশুগুলো হয়ে উঠেছে সুস্থ, সবল ও আকর্ষণীয়।
খামারি শরিফুল ইসলাম মালিথা জানান, ছোট পরিসরে শখের বসে শুরু করা এই খামার আজ তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন,
“অনেক কষ্ট আর শ্রম দিয়ে খামারটিকে দাঁড় করিয়েছি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামার দেখতে আসছেন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ক্রেতাদের বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, এবারের ঈদে ভালো বিক্রি হবে এবং ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবো।”
স্থানীয়দের মতে, শরিফুলের এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং এলাকার তরুণদের মাঝেও প্রাণিসম্পদ খাতে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তার খামারকে ঘিরে স্থানীয় বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য এবং অনেকেই এখন খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।
খামারে আগত ক্রেতারাও জানিয়েছেন সন্তুষ্টির কথা। তাদের মতে, বাজারের তুলনায় এখানে সুস্থ ও পরিচর্যাযুক্ত পশু পাওয়া যাচ্ছে, যা কোরবানির জন্য অধিক উপযোগী।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাণিসম্পদ খাতে এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে শরিফুল ইসলামের মতো আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও রাখবেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |