কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সৃজনশীল চর্চার বিকাশ এবং আগামী প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ায় জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সংস্কৃতিসেবীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। প্রাণের উচ্ছ্বাস, সৃজনশীল ভাবনা ও সম্মিলিত অঙ্গীকারে মুখর এ আয়োজন যেন কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনের বার্তা দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কুষ্টিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. তাইফুর রহমান।
জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নাট্যব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সভায় অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পরিমল থিয়েটারের সভাপতি পারভেজ মাজমাদার এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট শামিমুল হাসান অপুসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
সভায় বক্তারা বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৃজনশীল সমাজ বিনির্মাণে সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। কুষ্টিয়ার দীর্ঘদিনের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বিকশিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্রস্তাব তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, নাট্যোৎসব, সংগীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি উৎসব, লোকসংস্কৃতি চর্চা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং গ্রামভিত্তিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমকে আরও জনমুখী ও অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানানো হয়।
উন্মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতিসেবীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চাই পারে সমাজে সৌন্দর্যবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে। তারা কুষ্টিয়াকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক জেলায় পরিণত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা সাংস্কৃতিক ঐক্য, সৃজনশীল চর্চা এবং কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিল্প-সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও প্রাণবন্ত, সমন্বিত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |