| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

খাজানগরের চালের মোকামে ভাঙাচোরা রাস্তায় নাকাল ব্যবসায়ী-শ্রমিক-জনতা; ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতবিক্ষত সড়ক, বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় মরণফাঁদ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 30-07-2026 ইং
  • 2718 বার পঠিত
খাজানগরের চালের মোকামে ভাঙাচোরা রাস্তায় নাকাল ব্যবসায়ী-শ্রমিক-জনতা; ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতবিক্ষত সড়ক, বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় মরণফাঁদ
ছবির ক্যাপশন: সংস্কারের অভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ চালবাণিজ্য কেন্দ্রের যোগাযোগব্যবস্থা এখন প্রশ্নের মুখে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

রাজস্ব আসে কোটি কোটি, সড়কে শুধু গর্ত! কাগজে-কলমে দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ধান-চালের বাণিজ্য, শত শত ট্রাকের আসা-যাওয়া, অটো রাইসমিল ও চাতালের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার খাজানগর যেন দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অথচ সেই খাজানগরের সড়কেই উন্নয়নের বদলে যেন জমেছে অবহেলার স্তূপ। প্রধান সড়ক থেকে অভ্যন্তরীণ সড়ক—সর্বত্র খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত আর বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি-কাদায় তলিয়ে যায় সড়কের ক্ষতচিহ্ন; তখন চলাচলের পথ পরিণত হয় যেন একেকটি মরণফাঁদে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে খাজানগর থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব পায়, সেই খাজানগরের সড়ক কেন বছরের পর বছর সংস্কারহীন?

ব্যবসায়ী, মিল মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। প্রতিদিন ভারী ধান-চালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষয় আরও বাড়ছে। অথচ ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সড়ক নির্মাণ কিংবা পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষায় কাদা-পানি আর শুকনো মৌসুমে ধুলা-গর্ত—দুই মৌসুমেই দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন চাল ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। সড়কের বেহাল দশায় পণ্য পরিবহনে সময় লাগছে বেশি, বাড়ছে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবহন ব্যয়। সময়মতো চালের ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে। অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সড়কের বড় বড় গর্ত পানিতে ডুবে গেলে চালকরা বুঝতেই পারেন না কোথায় কতটা গভীর গর্ত। ফলে হঠাৎ যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদেরও কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মজনুর রহমান বলেন, খাজানগর দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম হলেও এখানকার সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিপুল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার রাজস্ব পেলেও সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দায়সারা গর্ত ভরাট করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী টেকসই সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। একই সঙ্গে সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি।

খাজানগরের সড়কের এই দুরবস্থা কি কেবল অর্থসংকটের ফল, নাকি পরিকল্পনার অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিচ্ছবি—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার সড়ক যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয়, তাহলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি ব্যাহত হতে পারে দেশের অন্যতম বৃহৎ চালবাজারের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম। তাই এখনই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ—নইলে ‘রাজস্বের খাজানগর’ হয়েই থাকবে ‘গর্তের খাজানগর’।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম