কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নকে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা মোঃ মোস্তাক আহমেদ মানিক। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণদের কর্মসংস্থান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি তাঁর ভাবনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মোস্তাক আহমেদ মানিকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তাঁর ভাষায়, শুধু মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; মাদকের চাহিদা কমিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধে আমি বিশ্বাস করি। আমি সমাজে এমন কাজ করতে চাই, যাতে মাদক ক্রেতারা মাদক বিক্রেতার কাছে না যায়।”
মোস্তাক আহমেদ মানিক মনে করেন, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো কর্মসংস্থান। কর্মহীন তরুণদের হতাশা থেকে দূরে রেখে তাদের দক্ষতা, শ্রম ও মেধাকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধের প্রবণতাও কমে আসবে।
নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নবীনদের কর্মসংস্থান আমার মূল লক্ষ্য। বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান করতে পারলেই সমাজ থেকে বেকার নামক ব্যাধি দূর হবে। এমন কাজটি আমি করে যাচ্ছি, আগামীতেও করতে চাই।”
তাঁর মতে, ইউনিয়নের উন্নয়ন কেবল রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের মূল কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে একটি ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় নাগরিক সুবিধার আরও বিস্তারের প্রয়োজন রয়েছে। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মোস্তাক আহমেদ মানিক বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া তাঁর কাছে কোনো পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং মানুষের সেবা করার একটি সুযোগ।
“আমি মানুষের নেতা হতে চাই না, মানুষের সেবক হতে চাই। পাটিকাবাড়ির প্রতিটি মানুষের কথা শুনে, তাদের প্রয়োজন ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দরিদ্র, অসহায়, প্রবীণ, নারী ও তরুণদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সেবাগুলো যেন সহজে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অর্থ কিংবা প্রভাবের পরিবর্তে সততা, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই প্রাধান্য পাবে।
স্থানীয়দের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং বিপদের সময় কতটা পাশে থাকেন—তার ওপর নির্ভর করে। সেই জায়গায় মোস্তাক আহমেদ মানিকের জনসম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক ভাবনা স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা অর্জনই একজন প্রার্থীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মানসিকতা থাকলে একজন জনপ্রতিনিধি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারেন। পাটিকাবাড়িতে মোস্তাক আহমেদ মানিককে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা ভোটের মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়—সেদিকেই এখন নজর এলাকাবাসীর।
তবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শেষ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও ভোটারদের রায়। সেই রায়ের অপেক্ষায় মোস্তাক আহমেদ মানিকের প্রত্যাশা—মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে সঙ্গে নিয়ে পাটিকাবাড়িকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত, মাদকমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা।
তাঁর প্রত্যাশার কেন্দ্রে তাই একটাই বার্তা—ক্ষমতার নয়, মানুষের আস্থার জনপ্রতিনিধিত্ব; প্রতিশ্রুতির নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে পাটিকাবাড়ির উন্নয়ন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |