কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে আমবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানার নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় দুঃসময়ে পাশে থাকা, মামলা-হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের কারণে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনীতির সুদিনে অনেকেই সামনে থাকেন; কিন্তু দুঃসময়ের পরীক্ষায় যারা দল ও আদর্শের পাশে অবিচল থাকেন, তারাই প্রকৃত অর্থে ত্যাগী নেতা হিসেবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। মাসুদ রানার রাজনৈতিক জীবনেও এমন কঠিন সময় এসেছে। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তার বিরুদ্ধে পাঁচটির বেশি মামলা হয়েছে এবং তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। নানা চাপ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মাসুদ রানা শুধু দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না, স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভূমিকা রাখায় তিনি তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যিনি মানুষের কাছে থাকবেন এবং নির্বাচনের পরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবেন। তাদের প্রত্যাশা—দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি যোগ্যতা, সততা, ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হোক। সে বিবেচনায় মাসুদ রানার মতো দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকে তারা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমবাড়িয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মাসুদ রানা। তার অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষকদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদ হবে মানুষের সেবার কেন্দ্র—ভোগান্তি কিংবা হয়রানির জায়গা নয়। সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, নাগরিক সেবা যাতে সহজ ও স্বচ্ছ হয় এবং দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক যাতে সমান মর্যাদা পান—এমন একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ গড়ে উঠুক।
মাসুদ রানার রাজনৈতিক দর্শনের মূলকথা, চেয়ারম্যানের পদ কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয় নয়; এটি জনগণের সেবা ও দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ। সেই সুযোগ পেলে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আমবাড়িয়া ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আমবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জোটে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
রাজনৈতিক সমীকরণ, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় আমবাড়িয়া ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিবেশ ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। আর সেই আলোচনায় দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মো. মাসুদ রানার নাম ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের রায়ে তিনি কতটা এগিয়ে যেতে পারেন—তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের মাঠেই।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |