| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমও হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 17-08-2026 ইং
  • 263 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমও হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
ছবির ক্যাপশন: তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা, ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | 

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১-২০ গ্রেডের জনবল নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে বহুল আলোচিত অনিয়মের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ১০/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাকে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের ১১-২০ গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যায়ভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে আলোচনায় আসে ঘটনা

২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আরএমও ডা. হোসেন ইমামের নিজস্ব বাসা থেকে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বের হতে দেখা যায়—এমন অভিযোগ তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অভিযোগ ওঠে, অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তার বাসায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। যদিও নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে আরএমও হিসেবে ডা. হোসেন ইমামের সরাসরি কোনো দায়িত্ব থাকার কথা ছিল না, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তদন্ত শেষে ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১৫ পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সাতটি পদে মোট ১১৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় ২০২৫ সালের ৪ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য সহকারী পদে ৯৭ জন, পরিসংখ্যানবিদ তিনজন, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান একজন, স্টোর কিপার চারজন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর একজন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পাঁচজন এবং ড্রাইভার চারজন নিয়োগের কথা ছিল।

এত বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শুরু থেকেই বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলা দায়ের হওয়ায় সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

আর কেউ জড়িত কি না, উঠছে প্রশ্ন

নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের ঘটনায় ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এসএম কামাল হোসেন বলেন, অন্য কারও জড়িত থাকার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি তদন্ত কমিটিই বলতে পারবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই তদন্ত ও বিভাগীয় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থী ও সচেতন মহল।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম