কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাঁরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংখ্য পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা শুধু স্মৃতির পাতায় আটকে রাখার নয়—আগামী দিনের সমাজ বিনির্মাণেও তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও দায়িত্ববোধের বার্তা নিয়ে কুষ্টিয়ায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডের বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের জেলা কার্যালয় থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের জেলা কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাতটার সময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে প্রবীণদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বয়সের ভারে নত শরীর, অথচ জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ প্রবীণদের উপস্থিতিতে র্যালিতে তৈরি হয় ভিন্ন আবহ। তাঁদের প্রতি সম্মান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাই হয়ে ওঠে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য।
র্যালি শেষে প্রবীণ হিতৈষী সংঘের জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন সরকার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মাজমাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ শেখ। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ। কুষ্টিয়ার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের কোষাধ্যক্ষ ফকির মুকুল হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; তাঁরা একটি প্রজন্মের জীবন্ত ইতিহাস, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সামাজিক মূল্যবোধের ধারক। তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
বক্তারা প্রবীণদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজের পরিচয় শুধু উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে নয়; প্রবীণ মানুষ সেখানে কতটা সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তার মধ্যেও সমাজের মানবিকতার প্রতিফলন ঘটে।
সভায় প্রবীণদের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে প্রবীণদের আন্তঃপ্রজন্মীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহসভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান ও সৈয়দ শাহনেওয়াজ আহমেদ রুমী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রেজাউল হক বাবর, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. তহিদুল ইসলামসহ নির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁদের জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে আগামী দিনের সমাজ নির্মাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |