| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের হলফনামা ঘিরে সুজন শিকদারকে নিয়ে চাঞ্চল্য

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 05-10-2026 ইং
  • 276 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের হলফনামা ঘিরে সুজন শিকদারকে নিয়ে চাঞ্চল্য
ছবির ক্যাপশন: বিভিন্ন স্থানে ধর্মান্তরের হলফনামা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

একবার নয়, বারবার ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের হলফনামা করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সুজন শিকদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ায় তার নামে থাকা একাধিক নথি ও হলফনামা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কখনো হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নাম পরিবর্তন করেছেন। পরে আবার পূর্বের ধর্মে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, সুজন শিকদার, জন্ম ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪, পিতা বাসুদেব ও মাতা শ্যামলী শিকদার। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম ‘সুজন শিকদার’ এবং ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের বিষয়ে একাধিক হলফনামার তথ্য রয়েছে। নথিতে তার ঠিকানা রাজবাড়ী সদর এলাকার হরিণধরা, ডাকঘর আফড়া বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে করা একটি হলফনামায় সুজন শিকদার নিজেকে ‘মোঃ আব্দুল্লাহ আল সুজন’ হিসেবে উল্লেখ করে হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। ওই হলফনামায় তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে রাজশাহীর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে করা আরেকটি এফিডেভিটে তার পূর্বের নাম সুজন শিকদার এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নাম মোঃ আব্দুল্লাহ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও তিনি হিন্দু ধর্ম পরিত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দেন।

এমন একাধিক নথি সামনে আসার পর অভিযোগ উঠেছে, ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন এলাকায় মানুষের আস্থা অর্জন এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন সময়ে করা ধর্মান্তর ও নাম পরিবর্তনের নথি থাকলে বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার অভিযোগ যুক্ত থাকলে তা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে সুজন শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্যও প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি ধর্ম পরিবর্তন করবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় বা নাম পরিবর্তনের নথি ব্যবহার করে যদি কারও কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সেটি ফৌজদারি অপরাধের বিষয় হতে পারে। তাই শুধু ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন নয়, এর আড়ালে কোনো আর্থিক প্রতারণা হয়েছে কি না—সেটিই তদন্তের মূল বিষয় হওয়া উচিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সুজন শিকদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে তার পরিচয়, নথিপত্র ও পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একাধিক ধর্মান্তর ও নাম পরিবর্তনের হলফনামা এবং প্রতারণার অভিযোগ—দুইয়ের যোগসূত্র কতটা, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। অভিযোগের আড়ালে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই পরিষ্কার হতে পারে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম