কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মোঃ মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সোঁপুকুরিয়া মসজিদ মোড় থেকে কাশেমের বাড়ি পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক। আশপাশে শত শত পরিবারের বসবাস হলেও গত ৭০ বছরেও সড়কটি পাকাকরণ হয়নি। খানাখন্দে ভরা জরাজীর্ণ এ সড়ক যেন গ্রামবাসীর নিত্যদিনের দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সোঁপুকুরিয়া মসজিদ মোড়ে গ্রামবাসী এ সড়কটি কার্পেটিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন করেন। গ্রামের ফিরোজা খাতুন (৫০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা এত খারাপ যে, ভ্যানের ওপরই ডেলিভারি হয়ে যায়। ভোটের সময় আসলেই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরে আর খবর নেয় না কেউ। তার স্বামী কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “৭০ বছর ধরে রাস্তা খারাপ। কোথাও গর্ত, কোথাও পাড় ভাঙা। বৃষ্টিতে চলাই যায় না। রোগী-ছাওয়াল নিয়ে কষ্টের শেষ নাই। রাস্তাডা পাকা হলেই মানুষ বাঁচত। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আবুল প্রামাণিক বলেন, “ভালো মানুষই চলতে পারে না, আমি আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভোটের সময় নেতারা আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে কেউ খোঁজ নেয় না। গৃহবধূ ফারজানা আক্তার বলেন, “বিয়ের পর ৪০ বছর ধরে দেখছি একই রকম রাস্তা। বিয়ের গাড়ি পর্যন্ত উল্টে গেছে এই রাস্তায়। আশপাশের সব রাস্তা পাকা হলেও এই রাস্তাটি আজও কাঁচা। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্থানীয় এক চেয়ারম্যান ইট দিয়ে এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করেছিলেন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে তা এখন ভেঙে গেছে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও ভ্যান ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন এই রাস্তায় চলাচল করতে চায় না। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ঢুকতে না পারায় জরুরি রোগী পরিবহনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়শা রহমান বলেন, “উঁচু-নিচু রাস্তায় প্রতিদিন ঝাঁকুনি খেতে হয়। বৃষ্টিতে কাদা-পানি জমে দুর্ঘটনা ঘটে, জামাকাপড় নষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই। গ্রামের আরেক বাসিন্দা মাহবুব আলম মুকুল জানান, “এক কিলোমিটার সড়ক দিয়েই ৩০০-৪০০ পরিবারের মানুষ যাতায়াত করে। জরাজীর্ণ এই সড়কটিতে মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ে। তাই কার্পেটিংয়ের দাবিতেই মানববন্ধন করেছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, “বরাদ্দের অভাবে এতদিন পাকাকরণ হয়নি। তবে তালিকা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “জনদুর্ভোগ কমাতে ও জনস্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি পাকাকরণ করা হবে।”
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |