কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
পদ্মার ঢেউ আর ভাঙাগড়ার সঙ্গে যার বসবাস, সেই তালবাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষের জীবনে উন্নয়ন যেন এখনো এক দীর্ঘ প্রত্যাশার নাম। নদীভাঙন, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষির নানা সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা—এসব বাস্তবতার মধ্যেই প্রতিদিন পথ চলছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ৩ নম্বর তালবাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষ। এমন এক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে জনসেবা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাইফুল ইসলাম কবিরাজ।
স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ সাইফুল কবিরাজকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় সংবাদে তাঁকে তালবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শোনার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।
পদ নয়, জনসেবাকেই গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় সাইফুল কবিরাজের অনুসারীরা বলছেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির লড়াই নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, ইউনিয়নের উন্নয়নকে গতিশীল করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান।
তাঁদের প্রত্যাশা, নেতৃত্বের সুযোগ পেলে সাইফুল কবিরাজ স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
পদ্মার ভাঙন—তালবাড়িয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা
তালবাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষের কাছে পদ্মা নদী একদিকে যেমন জীবনের আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনি আতঙ্কের নাম। নদীর ভাঙনে বছরের পর বছর বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছেন অনেক পরিবার। রানাখড়িয়া, শামুখিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের প্রভাব নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা সময়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাইফুল কবিরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজন জবাবদিহি তালবাড়িয়ার মানুষের প্রত্যাশা—যিনিই ইউনিয়নের নেতৃত্বে আসুন, তাঁকে হতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা গ্রহণে হয়রানি ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব করার দাবি রয়েছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের মতে, একজন চেয়ারম্যানের প্রকৃত সাফল্য শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণে নয়; বরং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়সংগতভাবে সেবা নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার মধ্যেই নেতৃত্বের আসল পরিচয়।
ভোটের মাঠে শেষ কথা বলবেন জনগণ
সাইফুল কবিরাজের সমর্থকদের দাবি, মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় আলাদা অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। তবে নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ধারণ করবে সাধারণ ভোটারদের আস্থা ও সমর্থন।
রাজনীতির মাঠে প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়। ভোটাররা এখন কথার চেয়ে কাজের পরিকল্পনা, নেতৃত্বের স্বচ্ছতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান। ফলে তালবাড়িয়ার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—তাঁরা কতটা বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হতে পারেন।
সাইফুল ইসলাম কবিরাজের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থিতা তাই শুধু একটি নির্বাচনী সমীকরণের বিষয় নয়; এটি তালবাড়িয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, উন্নয়নের স্বপ্ন এবং একজন জনবান্ধব নেতৃত্বের সন্ধানের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, সময়ের সঙ্গে সেই প্রত্যাশা কতটা জনসমর্থনে রূপ নেয় এবং তালবাড়িয়ার মানুষ তাঁদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে কাকে বেছে নেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |