কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাউলসম্রাট লালন শাহের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়া—যে মাটির সঙ্গে মিশে আছে বাউলগান, মরমি দর্শন, লোকসংগীত ও বাংলার শেকড়ের সংস্কৃতি। সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জনপদ কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার সোহেল ইসলাম।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাঁর এ দায়িত্বপ্রাপ্তিকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মী ও বাউল-সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
খন্দকার সোহেল ইসলাম বলেন, “কুষ্টিয়া শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলার বাউল ও মরমি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। লালন শাহের স্মৃতিধন্য এই মাটিতে বাউল দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাংলার মাটি ও মানুষের জীবনবোধের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। তাই শিল্পী, সাধক, লোকসংগীতপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়ার বাউল অঙ্গনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “কুষ্টিয়ার বাউল সমাজ ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বাউলগান, লোকসংগীত এবং আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখাই হবে আমাদের অঙ্গীকার।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুষ্টিয়ায় বাউল দলের কর্মকাণ্ডকে কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্পীসমাজ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে সংগঠনটি নতুন মাত্রা পেতে পারে। বিশেষ করে লালনের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ায় বাউল ও লোকসংগীতকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন খন্দকার সোহেল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, “সংগঠন মানেই মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের কথা শোনা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। কুষ্টিয়ায় বাউল দলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব।”
তিনি মনে করেন, রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতিও সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বাউলগানের মানবতাবাদী দর্শন, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিসরেও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে খন্দকার সোহেল ইসলাম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর কুষ্টিয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দলের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং বাউলগান ও লোকজ ঐতিহ্যের চর্চাও নতুন গতি পাবে।
এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তুহিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবি ফরিদ আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ডাবলু, সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন আল চিশতী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন মুন্না এবং কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল মিরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়ারুল ইসলাম জিয়া।
কুষ্টিয়ার বাউল-লালনের মাটিতে সংগঠনের সাংগঠনিক শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত করে সংস্কৃতি ও সংগঠন—দুই ধারাকেই সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় এখন খন্দকার সোহেল ইসলামের সামনে। তাঁর নেতৃত্বে কুষ্টিয়া থেকে বাউল দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি পাবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |