কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ায় অস্ত্র মামলায় দুই যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকের ব্যানারে।
কুষ্টিয়ায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে দুই যুবককে আটকের পর তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
আটক দুই যুবককে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দুর্বাচারা এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানে কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের হাসেন আলী গোপালের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৮) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার দুর্বাচারা গ্রামের রাহাদ আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৮) আটক হন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয়।
তবে আটককৃত দুই যুবকের পরিবারের দাবি, তাঁদের আটকের সময় কারও কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না। আরিফুল ইসলাম আরিফকে কুমারখালী থানার বাগুলাট ইউনিয়নের রোলার মোড় এলাকা থেকে এবং আব্দুল্লাহকে দুর্বাচারা বাজারের একটি কম্পিউটার দোকান থেকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আটক করা হয়। আটকের সময়কার ভিডিও ফুটেজও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আব্দুল্লাহকে আটকের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও প্রতিবাদের দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে ধারণ হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আটকের সময় কোনো অস্ত্র দেখা না গেলেও পরবর্তীতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা দেখানো হয়েছে।
এদিকে, দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আটকের সময়কার ভিডিও ফুটেজ যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ওই দুই যুবককে অস্ত্র মামলায় জড়ানো হতে পারে। এতে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আটক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ, পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে যদি অসামঞ্জস্য থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আরিফুল ইসলাম আরিফ ও মো. আব্দুল্লাহকে আটকের পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আটক করার সময় ও স্থান এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবি—সবকিছু যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিযানে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্মারকলিপির শেষাংশে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে একদিকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও অটুট থাকবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |