কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বর্ষা এলেই দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষের। টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও বসতবাড়ির উঠান, কোথাও রাস্তাঘাট, আবার কোথাও ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী এখন চান সাময়িক উদ্যোগ নয়—স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকলেও দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। খাল, নালা ও পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আর টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
পানিবন্দী মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ যাতায়াত নিয়ে। অনেক স্থানে কাঁচা ও পাকা সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের মাঠে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া নিয়েও তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বাড়ছে মশার উপদ্রব; পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার সমস্যাটি চলে আসছে। বর্ষা শেষ হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সমস্যার মূল কারণগুলো দূর করা হয় না। ফলে পরের বর্ষায় আবারও একই চিত্র দেখা দেয়। তাদের ভাষ্য, পানি নিষ্কাশনের খাল-নালা পুনঃখনন, দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পর্যাপ্ত কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই পানির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতার চেয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথগুলো অনেক জায়গায় বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। দ্রুত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রকৌশলগত সমীক্ষার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাল-নালা পুনঃখনন, সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ এবং পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। তাদের মতে, তালবাড়িয়ার মানুষের এই জলাবদ্ধতা কেবল বর্ষাকালের দুর্ভোগ নয়; এটি জনজীবন, কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য—সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলছে। তাই সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা।
বর্ষা আসবে, পানি জমবে—আর মানুষ পানিবন্দী থাকবে; এমন বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে তালবাড়িয়ার মানুষ এখন কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |